## গর্ভবস্থায় ইনফেকশন বা ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশন বেশি হলে কী করবেন?
মাতৃত্ব প্রতিটি নারীর জীবনে এক নতুন অধ্যায় নিয়ে আসে। এই সময়টা যেমন আনন্দের, তেমনই কিছু চ্যালেঞ্জও থাকে। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীর নানা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায়, যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। আর এই কারণে গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে ইনফেকশন, বিশেষ করে ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশন (Urinary Tract Infection বা UTI) হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই, এই সময় ইনফেকশন থেকে নিজেকে বাঁচানো এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করাটা খুবই জরুরি। একজন মা হিসেবে আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন আপনার গর্ভের সন্তান সুস্থ থাকুক। তাই, গর্ভাবস্থায় ইনফেকশন হলে কী করবেন, সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
গর্ভাবস্থায় ইউটিআই (UTI) কেন হয়?
গর্ভাবস্থায় ইউটিআই হওয়ার কয়েকটি প্রধান কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো:
* শারীরিক পরিবর্তন: গর্ভাবস্থায় জরায়ু বড় হওয়ার কারণে মূত্রনালীর (ureter) উপর চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে মূত্রাশয় (bladder) সম্পূর্ণভাবে খালি হতে পারে না এবং ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর সুযোগ পায়।
* হরমোনের পরিবর্তন: গর্ভাবস্থায় প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা মূত্রনালীকে প্রসারিত করে এবং ব্যাকটেরিয়া সহজে প্রবেশ করতে সাহায্য করে।
* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া: গর্ভাবস্থায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
* আগে ইউটিআই হওয়ার ইতিহাস: যাদের আগে ইউটিআই হয়েছে, তাদের গর্ভাবস্থায় আবার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
ইউটিআই (UTI) এর লক্ষণগুলো কী কী?
গর্ভাবস্থায় ইউটিআই-এর কিছু সাধারণ লক্ষণ নিচে দেওয়া হলো। এই লক্ষণগুলো দেখা গেলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
* বারবার প্রস্রাবের বেগ আসা
* প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা করা
* তলপেটে ব্যথা
* প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া
* জ্বর বা কাঁপুনি
* বমি বমি ভাব
অনেক সময় গর্ভাবস্থায় ইউটিআই-এর তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। একে অ্যাসিymptomatic bacteriuria বলা হয়। তবে এর কারণেও জটিলতা হতে পারে। তাই, গর্ভাবস্থায় নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করানো জরুরি।
গর্ভাবস্থায় ইউটিআই (UTI) হলে কী জটিলতা হতে পারে?
গর্ভাবস্থায় ইউটিআই-এর সঠিক চিকিৎসা না করালে কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে, যেমন:
* পাইলোনেফ্রাইটিস (Pyelonephritis): এটি একটি মারাত্মক কিডনি ইনফেকশন। এর ফলে মায়ের শরীরে জ্বর, কাঁপুনি এবং কোমরে ব্যথা হতে পারে।
* প্রিম্যাচিউর ডেলিভারি (Premature Delivery): ইউটিআই-এর কারণে সময়ের আগে প্রসব বেদনা শুরু হতে পারে।
* কম ওজনের শিশু (Low Birth Weight Baby): ইউটিআই-এর কারণে শিশুর ওজন কম হতে পারে।
* অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের সংক্রমণ (Infection of amniotic fluid): ইউটিআই থেকে অ্যামনিওটিক ফ্লুইডে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা শিশুর জন্য ক্ষতিকর।
গর্ভাবস্থায় ইউটিআই (UTI) হলে কী করবেন?
গর্ভাবস্থায় ইউটিআই ধরা পড়লে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করা উচিত। সাধারণত, ডাক্তার অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে থাকেন। তবে, অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়াও, কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে ইউটিআই-এর উপসর্গ কিছুটা কমানো যেতে পারে:
* প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন: প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। এটি শরীর থেকে ব্যাকটেরিয়া বের করে দিতে সাহায্য করে।
* ভিটামিন সি (Vitamin C) যুক্ত খাবার: ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই, লেবু, কমলা, পেয়ারা, আমলকীর মতো ভিটামিন সি যুক্ত খাবার বেশি করে খান।
* ক্র্যানবেরি জুস (Cranberry Juice): ক্র্যানবেরি জুস ইউটিআই প্রতিরোধে সাহায্য করে। তবে, কেনার আগে দেখে নিন জুসে যেন অতিরিক্ত চিনি না থাকে।
* প্রস্রাব চেপে রাখবেন না: যখনই প্রস্রাবের বেগ আসবে, তখনই টয়লেটে যান। প্রস্রাব চেপে রাখলে ব্যাকটেরিয়া বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
* পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন: নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন। প্রস্রাবের পর সবসময় সামনে থেকে পিছনের দিকে পরিষ্কার করুন।
* ঢিলেঢালা পোশাক পরুন: আঁটসাঁট পোশাক এড়িয়ে চলুন। সুতির পোশাক ব্যবহার করুন, যা ত্বককে শুষ্ক রাখতে সাহায্য করে।
ইউটিআই (UTI) প্রতিরোধের উপায়
গর্ভাবস্থায় ইউটিআই প্রতিরোধের জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি:
* নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা: গর্ভাবস্থায় নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করানো উচিত, যাতে কোনো সংক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই ধরা পড়ে।
* যৌন স্বাস্থ্যবিধি: যৌন মিলনের আগে ও পরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন।
* প্রস্রাবের পর ভালোভাবে পরিষ্কার করা: প্রস্রাবের পর সবসময় সামনে থেকে পিছনের দিকে পরিষ্কার করুন।
* পর্যাপ্ত পানি পান করা: প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
* স্বাস্থ্যকর খাবার: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খান।
বাচ্চাদের জন্য স্বাস্থ্যকর পণ্য
গর্ভাবস্থায় মায়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখা যেমন জরুরি, তেমনি শিশুর জন্মের পর তার স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার দিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। আমাদের ওয়েবসাইটে আপনি আপনার শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পণ্য পাবেন।
* অর্গানিক বেবি কেয়ার প্রোডাক্টস: আমাদের স্টোরে আপনি পাবেন বিভিন্ন অর্গানিক বেবি কেয়ার প্রোডাক্টস, যা আপনার শিশুর ত্বককে রাখবে কোমল ও সুরক্ষিত।
* নিরাপদ খেলনা: শিশুর বিকাশের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ খেলনা। আমাদের কাছে আছে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষামূলক ও নিরাপদ খেলনা।
* স্বাস্থ্যকর খাবার: শিশুর জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খুবই জরুরি। আমাদের স্টোরে আপনি পাবেন বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার।
গর্ভাবস্থায় নিজের যত্ন নিন এবং সুস্থ থাকুন। আপনার সুস্থতাই আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ। যেকোনো প্রয়োজনে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং আমাদের ওয়েবসাইট থেকে আপনার শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনুন। আপনার মাতৃত্বের পথচলা আরও সুন্দর হোক, এই কামনাই করি।

Leave a Reply