নবজাতকের নাক বন্ধ হলে কী করবেন

Gemini_Generated_Image_u7vb1bu7vb1bu7vb (1)

## নবজাতকের নাক বন্ধ হলে কী করবেন

ছোট্ট সোনামণির হাসি দেখলে মনটা ভরে যায়, তাই না? কিন্তু সেই হাসিতে যদি বাধা পড়ে, যদি দেখেন আপনার আদরের বাচ্চার নাকটা বন্ধ হয়ে গেছে, তাহলে চিন্তা হওয়াটা স্বাভাবিক। নবজাতকের নাক বন্ধ হওয়া খুবই সাধারণ একটি সমস্যা, তবে এর কারণে বাচ্চা অস্বস্তি বোধ করে, ঘুমাতে সমস্যা হয় এবং ঠিকমতো খেতেও পারে না। বিশেষ করে শীতকালে এই সমস্যা বেড়ে যায়। তাই একজন বাবা-মা হিসেবে নবজাতকের নাক বন্ধ হলে কী করবেন, তা জানা থাকাটা খুবই জরুরি। আসুন, এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

নাক বন্ধ হওয়ার কারণগুলো কী কী?

নবজাতকের নাক বন্ধ হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। প্রধান কারণগুলো হলো:

* ঠান্ডা লাগা: সাধারণ ঠান্ডা লাগার কারণে নাক বন্ধ হতে পারে। ভাইরাসের সংক্রমণে নাকের ভেতরে শ্লেষ্মা জমে যায়।

* শুষ্ক বাতাস: শীতকালে বা এসির কারণে ঘরের বাতাস শুষ্ক হয়ে গেলে নাকের ভেতরের ঝিল্লি শুকিয়ে যায় এবং নাক বন্ধ হয়ে যায়।

* অ্যালার্জি: ধুলো, বালি, পরাগরেণু অথবা অন্য কোনো অ্যালার্জির কারণেও নাক বন্ধ হতে পারে।

* নাকের ভেতরের গঠন: কিছু বাচ্চার নাকের ভেতরের গঠন এমন হয় যে সহজেই নাক বন্ধ হয়ে যায়।

* দুধ বা বমি: অনেক সময় দুধ তোলার সময় বা বমি করার সময় কিছু অংশ নাকের মধ্যে ঢুকে গিয়েও নাক বন্ধ করতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন বাচ্চার নাক বন্ধ হয়েছে?

ছোট্ট শিশুরা কথা বলতে পারে না, তাই তাদের কষ্টগুলো একটু অন্যভাবে বুঝতে হয়। কিছু লক্ষণ দেখে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন আপনার বাচ্চার নাক বন্ধ হয়েছে কিনা:

* নাক দিয়ে শ্বাস নিতে অসুবিধা: বাচ্চা মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করবে।

* ঘুমানোর সময় শব্দ করা: নাক বন্ধ থাকলে ঘুমের সময় ঘড়ঘড় বা সাঁইসাঁই শব্দ হতে পারে।

* খাবার খেতে অসুবিধা: নাক বন্ধ থাকলে বাচ্চা বুকের দুধ বা ফিডার টানতে সমস্যা বোধ করবে এবং কান্নাকাটি করতে পারে।

* অস্থিরতা: বাচ্চা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অস্থির ও খিটখিটে হয়ে যেতে পারে।

নাক বন্ধ হলে ঘরোয়াভাবে কী করবেন?

নাক বন্ধ হলে প্রথমে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে দেখতে পারেন। এতে অনেক সময় উপকার পাওয়া যায়।

* স্যালাইন ড্রপ ব্যবহার: স্যালাইন ড্রপ (Saline drop) নবজাতকের জন্য খুবই নিরাপদ। এটি নাকের ভেতরের শ্লেষ্মা নরম করে দেয় এবং বন্ধ নাক খুলতে সাহায্য করে।

* ব্যবহারের নিয়ম: বাচ্চাকে চিৎ করে শুইয়ে দিন। এরপর স্যালাইন ড্রপের বোতল থেকে ১-২ ফোঁটা করে দুই নাকের ছিদ্রে দিন। ৩০ সেকেন্ডের মতো অপেক্ষা করুন, যাতে শ্লেষ্মা নরম হয়ে যায়। তারপর একটি নরম রাবার সিরিঞ্জ বা ন্যাসাল এসপিরেটর দিয়ে সাবধানে শ্লেষ্মা টেনে বের করে নিন।

* humidifer ব্যবহার: ঘরে হিউমিডিফায়ার (Humidifier) ব্যবহার করলে বাতাসের আর্দ্রতা বাড়বে এবং বাচ্চার নাকের ভেতরের শুষ্কতা কমবে।

* টিপস: হিউমিডিফায়ার না থাকলে, গরম জলের পাত্র বা ভেজা কাপড় ঘরের এক কোণে রেখে দিতে পারেন।

* গরম জলের ভাপ: হালকা গরম জলের ভাপ নেওয়ালে নাকের বন্ধ ভাব কমে যায়।

* সতর্কতা: সরাসরি গরম জলের ভাপ দেবেন না। বাথরুমের দরজা বন্ধ করে গরম জলের কল ছেড়ে দিন, যাতে বাথরুমে ভাপ তৈরি হয়। এরপর বাচ্চাকে নিয়ে কিছুক্ষণ বাথরুমে বসুন।

* মাথা উঁচু করে শোয়ানো: বাচ্চাকে শোয়ানোর সময় হালকা করে মাথাটা একটু উঁচু করে দিন। এতে শ্বাস নিতে সুবিধা হবে।

* করণীয়: বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় বা ফিডার দেওয়ার সময় বাচ্চাকে খাড়া করে ধরুন।

* নাক পরিষ্কার রাখা: নরম কাপড় বা কটন বাড সামান্য ভিজিয়ে নাকের চারপাশের জমাট বাঁধা ময়লা আলতো করে পরিষ্কার করে দিন।

* সাবধানতা: নাকের ভেতরে বেশি গভীরে কটন বাড প্রবেশ করাবেন না।

বয়স অনুযায়ী যত্ন

বাচ্চার বয়স অনুযায়ী কিছু বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হতে পারে:

* ০-৬ মাস: এই সময় বাচ্চারা শুধুমাত্র বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধের উপর নির্ভরশীল থাকে। তাই নাক বন্ধ থাকলে তাদের খাওয়াতে অসুবিধা হতে পারে। স্যালাইন ড্রপ ব্যবহার করে নাক পরিষ্কার করে দিন এবং অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ান।
* ৬-১২ মাস: এই সময় বাচ্চারা ধীরে ধীরে অন্যান্য খাবার খাওয়া শুরু করে। নাক বন্ধ থাকলে নরম এবং তরল খাবার দিন যা গিলতে সুবিধা হয়।
* ১২ মাসের পর: এই সময় বাচ্চারা প্রায় সব ধরনের খাবার খেতে পারে। নাক বন্ধ থাকলে তাদের গরম স্যুপ বা হালকা মসলাযুক্ত খাবার দিতে পারেন।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে?

সাধারণত ঘরোয়া চিকিৎসাতেই নবজাতকের নাক বন্ধ হওয়া সেরে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:

* জ্বর: যদি বাচ্চার জ্বর থাকে।

* শ্বাসকষ্ট: যদি শ্বাস নিতে খুব কষ্ট হয় বা বুকের পাঁজর দেবে যায়।

* কাশি: যদি খুব বেশি কাশি হয়।

* খাবার গ্রহণে অনীহা: যদি বাচ্চা একেবারেই খেতে না চায়।

* নীল হয়ে যাওয়া: যদি বাচ্চার ঠোঁট বা ত্বক নীল হয়ে যায়।

* দীর্ঘ সময় ধরে নাক বন্ধ থাকা: যদি সাত দিনের বেশি সময় ধরে নাক বন্ধ থাকে।

নাক বন্ধ হওয়া প্রতিরোধ করার উপায়

কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে আপনার বাচ্চার নাক বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারেন:

* পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন: ঘরবাড়ি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন, যাতে ধুলোবালি কম থাকে।

* ধূমপান পরিহার করুন: বাচ্চার আশেপাশে ধূমপান করবেন না।

* আর্দ্রতা বজায় রাখুন: ঘরের বাতাস শুষ্ক হতে দেবেন না। হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন অথবা ভেজা কাপড় টাঙিয়ে রাখুন।

* ভিড় এড়িয়ে চলুন: শীতকালে বাচ্চারোগীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।

* নিয়মিত হাত ধোয়া: বাচ্চাকে ধরার আগে এবং পরে অবশ্যই ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।

নবজাতকের নাক বন্ধ হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা হলেও, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে আপনার সোনামণি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে এবং হাসি-খুশি থাকবে। আপনার বাচ্চার সুস্থতা এবং হাসি আমাদের কাম্য।

শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য যেমন – ন্যাজাল এসপিরেটর, বেবি ওয়াইপস, হিউমিডিফায়ার এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য বিষয়ক সরঞ্জাম আমাদের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। আপনার শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে আজই ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইটে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *