## গর্ভাবস্থায় সেলুনে-সৌন্দর্যচর্চা (হেয়ার কালার, ম্যানিকিউর) ঠিক আছে কি?
মাতৃত্ব একটি অসাধারণ যাত্রা। এই সময়টাতে নিজের প্রতি একটু বাড়তি যত্ন নিতে মন চাইবেই। আর তাই গর্ভবতী অবস্থায় রূপচর্চা নিয়ে অনেক প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। হেয়ার কালার করা, ম্যানিকিউর অথবা অন্য কোনো সৌন্দর্য বিষয়ক ট্রিটমেন্ট নেওয়ার আগে হবু মায়েদের মনে দ্বিধা থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। “গর্ভে থাকা বাচ্চার কোনো ক্ষতি হবে না তো?” – এই চিন্তাটা সবসময় কাজ করে। আজকের ব্লগ পোস্টে আমরা গর্ভাবস্থায় সেলুনে গিয়ে সৌন্দর্যচর্চা করা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
### গর্ভাবস্থায় সৌন্দর্যচর্চা: কিছু জরুরি কথা
গর্ভাবস্থায় শরীরে অনেক পরিবর্তন আসে। হরমোনের ওঠানামার কারণে ত্বক, চুল এবং নখের ওপর এর প্রভাব পড়ে। এই সময় ত্বক আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, তাই যে কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের আগে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
* নিজের শরীরের প্রতি মনোযোগ দিন। কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের পর অস্বস্তি বোধ করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করুন।
* ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো নতুন রূপচর্চা শুরু করবেন না।
* সেলুনে ব্যবহৃত উপকরণগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কিনা, তা নিশ্চিত করুন।
### হেয়ার কালার: গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি কতটা?
গর্ভাবস্থায় হেয়ার কালার করা নিয়ে অনেক মতামত প্রচলিত আছে। সাধারণভাবে মনে করা হয়, কালারের রাসায়নিক উপাদানগুলো ত্বকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি করতে পারে। তবে, আধুনিক গবেষণা বলছে অন্য কথা।
* অধিকাংশ গবেষণায় দেখা গেছে, হেয়ার কালারের সামান্য পরিমাণ রাসায়নিক উপাদান শরীরে প্রবেশ করে, যা গর্ভের সন্তানের জন্য ক্ষতিকর নয়।
* তবুও, প্রথম ত্রৈমাসিকে (first trimester) হেয়ার কালার করা এড়িয়ে যাওয়া ভালো। কারণ এই সময় বাচ্চার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠিত হতে শুরু করে এবং এটি সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়।
* যদি কালার করতেই হয়, তাহলে অ্যামোনিয়া (ammonia) মুক্ত এবং প্রাকৃতিক উপাদান সমৃদ্ধ (organic) কালার বেছে নিন।
* পুরো চুলে কালার না করে শুধু হাইলাইট (highlights) বা বেইলেজ (balayage) করতে পারেন, কারণ এতে স্ক্যাল্পের (scalp) সংস্পর্শ কম হয়।
* কালার করার সময় ভালো করে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় বসুন, যাতে রাসায়নিক গন্ধ শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে না ঢোকে।
### ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর: গর্ভাবস্থায় কি নিরাপদ?
ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর গর্ভাবস্থায় তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। তবে কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।
* যে সেলুনে যাচ্ছেন, সেখানকার সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত কিনা, তা নিশ্চিত করুন। সংক্রমণ এড়াতে এটা খুবই জরুরি।
* নেলপলিশ রিমুভার (nail polish remover) ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখুন, যেন সেটি অ্যাসিটোন (acetone) মুক্ত হয়। অ্যাসিটোনযুক্ত রিমুভার শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে ক্ষতি হতে পারে।
* ম্যানিকিউর বা পেডিকিউর করার সময় ত্বকে কোনো রকম আঘাত লাগলে সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টিসেপটিক (antiseptic) ব্যবহার করুন।
* বেশীক্ষণ ধরে ঝুঁকে বসে থাকবেন না। মাঝে মাঝে বিরতি নিন এবং শরীরকে আরাম দিন।
* নিজেকে হাইড্রেটেড (hydrated) রাখুন। প্রচুর পানি পান করুন।
### গর্ভাবস্থায় সৌন্দর্যচর্চার বিকল্প উপায়
রাসায়নিক প্রসাধনী ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়েও নিজেকে সুন্দর রাখা যায়।
* চুলের যত্নে মেহেদি, ডিম, টক দই ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো চুলের জন্য খুবই উপকারী।
* ত্বকের যত্নে মধু, অ্যালোভেরা, শসা ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো ত্বককে ময়েশ্চারাইজ (moisturize) করে এবং উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
* নিয়মিত যোগা (yoga) ও ব্যায়াম (exercise) করুন। এতে ত্বক ও চুল ভালো থাকে।
* পর্যাপ্ত ঘুমানো এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া গর্ভাবস্থায় খুবই জরুরি।
### বয়সভিত্তিক টিপস:
* ০-৬ মাস: এই সময় শিশুর ত্বক খুবই নরম থাকে। তাই কোনো রকম রাসায়নিক প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো। প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করুন।
* ৬-১২ মাস: এই সময় বাচ্চারা হামাগুড়ি দেয় এবং সবকিছু মুখে দেওয়ার চেষ্টা করে। তাই বাচ্চার হাতের কাছে কোনো ক্ষতিকর প্রসাধনী রাখবেন না।
* ১-৩ বছর: এই সময় বাচ্চাদের ত্বক বড়দের মতো হয়ে যায়, তবুও তাদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি প্রসাধনী ব্যবহার করুন।
### মনে রাখবেন:
গর্ভাবস্থায় প্রতিটি মায়ের শরীর আলাদা। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে ভালো। আপনার ডাক্তার আপনার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সঠিক পরামর্শ দিতে পারবেন।
গর্ভাবস্থা একটি সুন্দর সময়। নিজের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন এবং মাতৃত্বের আনন্দ উপভোগ করুন!
আমাদের কিডস স্টোরে (kids store) আপনি পাবেন আপনার শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু – নরম কাপড়, নিরাপদ খেলনা, বই এবং আরও অনেক কিছু। সুস্থ থাকুন, সুন্দর থাকুন! আপনার শিশুর ভবিষ্যৎ সুন্দর করতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Leave a Reply