শিশুর বিভিন্ন অঙ্গের যত্নে নতুন বাবা-মায়ের সাধারণ ভুল

Gemini_Generated_Image_nt4r3hnt4r3hnt4r (1)

## শিশুর বিভিন্ন অঙ্গের যত্নে নতুন বাবা-মায়ের সাধারণ ভুল

নতুন বাবা-মা হওয়াটা নিঃসন্দেহে জীবনের অন্যতম সুন্দর একটি মুহূর্ত। ছোট্ট একটা প্রাণীর আগমন পুরো পরিবারে আনন্দ নিয়ে আসে। তবে একইসাথে বাড়ে দায়িত্বও। বিশেষ করে প্রথমবার যখন বাবা-মা হন, তখন শিশুর সঠিক পরিচর্যা নিয়ে অনেক দ্বিধা আর ভয় কাজ করে। নবজাতকের কোমল ত্বক, নাজুক অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোর সঠিক যত্ন কিভাবে নিতে হয়, তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন জাগে। অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাবে বা অভিজ্ঞতার অভাবে কিছু সাধারণ ভুল হয়ে যায়, যা শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই, নতুন বাবা-মা হিসেবে শিশুর বিভিন্ন অঙ্গের যত্নে সচরাচর যে ভুলগুলো হয়ে থাকে, সেগুলো সম্পর্কে জেনে আগে থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি।

### ত্বকের যত্নে ভুলগুলো

শিশুর ত্বক বড়দের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে থাকে। তাই এর যত্নে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে কিছু সাধারণ ভুল প্রায়ই দেখা যায়:

* **বেশি তেল ব্যবহার:** আমাদের দেশে একটা ধারণা প্রচলিত আছে যে, শিশুদের গায়ে প্রচুর তেল মাখলে ত্বক ভালো থাকে। কিন্তু অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করলে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং র‍্যাশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে গরমকালে এই প্রবণতা আরও বেশি ক্ষতিকর। হালকা তেল, যেমন নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে, তাও পরিমিত পরিমাণে।

* **ভুল পণ্য নির্বাচন:** বাজারে বিভিন্ন ধরনের বেবি কেয়ার প্রোডাক্ট পাওয়া যায়। সব প্রোডাক্ট শিশুর ত্বকের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। সুগন্ধীযুক্ত বা ক্ষতিকর রাসায়নিকযুক্ত পণ্য ব্যবহার করা উচিত না। সবসময় চেষ্টা করুন প্যারাবেন, সালফেট ও অ্যালকোহল মুক্ত পণ্য ব্যবহার করতে। কেনার আগে অবশ্যই পণ্যের উপাদানগুলো ভালোভাবে দেখে নিন।

* **নিয়মিত পরিষ্কার না করা:** শিশুরা সারাদিন নানা কাজে লিপ্ত থাকে এবং ঘামে ভেজা থাকে। নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার না করলে ঘাম জমে র‍্যাশ, চুলকানি বা অন্যান্য সংক্রমণ হতে পারে। প্রতিদিন হালকা গরম পানিতে নরম কাপড় ভিজিয়ে শিশুর শরীর আলতোভাবে মুছে দিন।

* **ডায়াপার র‍্যাশ প্রতিরোধে অবহেলা:** ডায়াপার ব্যবহারের কারণে অনেক শিশুরই র‍্যাশ হয়ে থাকে। ডায়াপার পরিবর্তন করার সময় ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে শুকনো করে নিতে হবে। র‍্যাশ প্রতিরোধের জন্য জিঙ্ক অক্সাইড যুক্ত ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও, শিশুকে কিছুক্ষণ ডায়াপার ছাড়া রাখলে বাতাস চলাচল করতে পারে।

### চোখের যত্নে ভুলগুলো

শিশুর চোখ খুবই সংবেদনশীল। তাই এর যত্নে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

* **চোখের পাতার ময়লা পরিষ্কার না করা:** অনেক সময় দেখা যায়, শিশুর চোখের পাতার কোণে সাদা বা হলদেটে ময়লা জমে থাকে। এটি নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সংক্রমণ হতে পারে। নরম কাপড় হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে আলতোভাবে চোখের কোণ পরিষ্কার করুন। প্রতিটি চোখের জন্য আলাদা কাপড় ব্যবহার করুন।

* **আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা উপেক্ষা করা:** নবজাতকের চোখ উজ্জ্বল আলোর প্রতি সংবেদনশীল থাকে। সরাসরি সূর্যের আলো বা তীব্র আলো শিশুর চোখে লাগলে অস্বস্তি হতে পারে। তাই, শিশুকে উজ্জ্বল আলো থেকে দূরে রাখুন অথবা ক্যাপ ব্যবহার করুন।

* **সংক্রমণ অবহেলা করা:** শিশুর চোখে যদি লালচে ভাব, পানি পড়া বা পিচুটি দেখা যায়, তাহলে তা সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। এক্ষেত্রে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজের থেকে কোনো ওষুধ ব্যবহার করা উচিত না।

### নাকের যত্নে ভুলগুলো

শিশুর নাক পরিষ্কার রাখাটা খুবই জরুরি, বিশেষ করে যখন তারা নিজেরা নাক ঝাড়তে পারে না।

* **কটন বাড ব্যবহার:** শিশুর নাক পরিষ্কার করার জন্য কটন বাড ব্যবহার করা উচিত না। এতে নাকের ভেতরের নরম ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বরং স্যালাইন ড্রপ ব্যবহার করে নাকের ভেতরের জমাট বাঁধা শ্লেষ্মা নরম করে দিন, তারপর একটি নরম কাপড় দিয়ে আলতোভাবে মুছে ফেলুন।

* **শুষ্ক বাতাস:** শুষ্ক বাতাস শিশুর নাকের ভেতরের ত্বককে শুষ্ক করে দিতে পারে, যার ফলে শ্বাস নিতে অসুবিধা হতে পারে। ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করে বাতাসের আর্দ্রতা বজায় রাখুন।

* **ঠান্ডা লাগলে অবহেলা:** শিশুর ঠান্ডা লাগলে নাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করুন এবং নাকের ভেতরের শ্লেষ্মা পরিষ্কার রাখুন।

### কানের যত্নে ভুলগুলো

শিশুর কানের যত্ন নেওয়ার সময় খুব সাবধান থাকতে হয়।

* **কটন বাড ব্যবহার (আবারও):** কানের ভেতরে কটন বাড ব্যবহার করা একদমই উচিত নয়। এটি কানের পর্দায় আঘাত করতে পারে এবং সংক্রমণ ঘটাতে পারে। কানের বাইরের অংশ নরম কাপড় দিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করুন।

* **কানে পানি ঢুকলে:** গোসলের সময় বা অন্য কোনো কারণে শিশুর কানে পানি ঢুকলে তা বের করে দেওয়া জরুরি। শিশুকে কাত করে শুইয়ে দিন, যাতে পানি আপনাআপনি বেরিয়ে আসে। যদি পানি বের হতে সমস্যা হয়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

* **সংক্রমণ অবহেলা করা:** শিশুর কানে ব্যথা, কান থেকে তরল নির্গত হওয়া বা শোনার সমস্যা হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

### মুখের যত্নে ভুলগুলো

শিশুর মুখের স্বাস্থ্যবিধি শুরু হয় দাঁত ওঠার আগে থেকেই।

* **দাঁত ওঠার আগে যত্ন না নেওয়া:** দাঁত ওঠার আগে থেকেই শিশুর মুখের যত্ন নেওয়া শুরু করা উচিত। নরম কাপড় বা গজ হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে শিশুর মাড়ি আলতোভাবে মুছে দিন।

* **বেশি মিষ্টি খাবার:** দাঁত ওঠার পরে শিশুকে বেশি মিষ্টি খাবার দেওয়া উচিত না। মিষ্টি খাবার দাঁতের ক্ষয়রোগের কারণ হতে পারে।

* **নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করা:** দাঁত ওঠার পরে নরম ব্রাশ দিয়ে দিনে দুবার দাঁত ব্রাশ করা উচিত।

* **বোতলে দুধ খাওয়ানো:** অনেক বাবা-মা শিশুকে বোতলে দুধ খাওয়ান এবং ঘুম পাড়িয়ে দেন। এতে দুধ দাঁতের সংস্পর্শে দীর্ঘক্ষণ থাকার কারণে দাঁতের ক্ষতি হতে পারে।

শিশুর যত্নে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

* সঠিক সময়ে টিকা দেওয়া শিশুর সুস্থ জীবনের জন্য খুবই জরুরি।

* ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত।

* নিয়মিত ডাক্তারের কাছে শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত।

শিশুর সঠিক যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে আপনি তাকে একটি সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দিতে পারেন। মনে রাখবেন, প্রতিটি শিশুই আলাদা এবং তাদের প্রয়োজনও ভিন্ন। আপনার সন্তানের প্রয়োজন অনুযায়ী যত্ন নিন এবং কোনো দ্বিধা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।

আপনার আদরের সোনামণির জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু এখন আপনার হাতের কাছেই! আমাদের ওয়েবসাইটে রয়েছে শিশুদের জন্য দরকারি নানান পণ্য – খেলনা, বই, পোশাক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সুরক্ষার সামগ্রী। আজই ভিজিট করুন এবং আপনার সন্তানের জন্য সেরাটি বেছে নিন!

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *